bgs2f

বাংলাদেশের অর্থনীতি | Hurreh Funbook
📚 অষ্টম শ্রেণি · বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের অর্থনীতি 🇧🇩

চতুর্থ অধ্যায় · Hurreh Funbook · সম্পূর্ণ পাঠ্যবই কভারেজ
🏘️ ভূমিকা 📊 GDP · GNP 💵 মাথাপিছু আয় 🏭 খাতসমূহ 👨‍👩‍👧 মানব সম্পদ 🏅 HDI 🔢 দেশ তুলনা ✈️ রেমিটেন্স

🎯 এই অধ্যায় পড়ে তুমি যা পারবে:

GDP, GNP ও মাথাপিছু আয়ের ধারণা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারবে
জিডিপিতে কোন কোন খাত অবদান রাখছে তা বর্ণনা করতে পারবে
মানব সম্পদ উন্নয়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
বাংলাদেশে মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারবে এবং অন্য দেশের সাথে তুলনা করতে পারবে
মানব উন্নয়ন সূচকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
HDI-তে বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনা করতে পারবে
রেমিটেন্স ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারবে
🏘️
ভূমিকা — বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জীবন
মিশ্র অর্থনীতি · সরকারি ও বেসরকারি খাত

বাংলাদেশকে বলা হয় কৃষি প্রধান দেশএদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে এবং কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়।। এদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে।

🌾 গ্রামের পেশাজীবী
🌾 কৃষক (প্রধান পেশা)
🧵 তাঁতি
🐟 জেলে
🪔 কুমার
⚒️ কামার
🛒 মুদি দোকানদার
💼 ছোটখাটো ব্যবসায়ী
🏙️ শহরের পেশাজীবী
💼 চাকরিজীবী
📦 ব্যবসায়ী
🛺 রিক্সা চালক
🚛 ঠেলা ও ভ্যানগাড়ি চালক
💪 মুটে ও মজুর
🏪 ছোট দোকানদার
🚶 ফেরিওয়ালা
── মালিকানার ধরন ──
🏛️ রাষ্ট্রীয় মালিকানা
• শিল্পকারখানা
• রেল পরিবহন
• সড়ক পরিবহন
• নৌপরিবহন
• শিক্ষা (সেবামূলক)
• স্বাস্থ্য (সেবামূলক)
🏢 বেসরকারি মালিকানা
• শিল্পকারখানা
• ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান
• বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে
• দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
💡 গুরুত্বপূর্ণ: সব কাজ হয় ব্যক্তি উদ্যোগে। সরকারি ও বেসরকারি — এই দুই খাতকে নিয়েই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জীবনধারামিশ্র অর্থনীতি: সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত মিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয়। বিকশিত হচ্ছে।
📊
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)
Gross Domestic Product · পাঠ ১

একটি দেশের অভ্যন্তরে — দেশি বা বিদেশি নাগরিক যে কেউ হোক — প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)Gross Domestic Product. দেশের ভৌগোলিক সীমার ভেতরে এক বছরে মোট উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।

🎯 কেন হিসাব করা হয়? একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বা সামর্থ্য বোঝার জন্য।
🏭 দেশের অভ্যন্তরে (দেশি + বিদেশি সবার) উৎপাদন = GDP
⚠️ যা GDP-তে ধরা হয় না:
কোনো ব্যক্তি বিদেশে কাজ করলে অথবা কোনো কোম্পানি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠালে — সেই আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হবে না
📌 GDP = শুধু দেশের মাটিতে উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।
৳৩,৭০,৭০৭ কোটি
বাংলাদেশের GDP
২০০৪-০৫ অর্থবছর
৳২৭,৯৬,৩৭৮ কোটি
বাংলাদেশের GDP
২০১৯-২০ অর্থবছর

📈 মাত্র ১৫ বছরে GDP বেড়েছে প্রায় ৭.৫ গুণ! উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০

🔗 কারণ-প্রভাব শৃঙ্খল:
উৎপাদন বৃদ্ধি → দারিদ্র্য হ্রাস → মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে → কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে → বেকারত্ব হ্রাস পায়
📌 এর সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রবৃদ্ধির সূচকে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
🌍
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)
Gross National Product · পাঠ ১

একটি দেশের নাগরিকনির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) — যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)Gross National Product. দেশের নাগরিকরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের আয় দেশে এলে তা GNP-তে যোগ হয়।

🎯 কেন হিসাব করা হয়? একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য।
🌐 দেশে + বিদেশে (শুধু দেশের নাগরিক) উৎপাদন = GNP
📊 GDP বলে — কোথায়?
দেশের মাটিতে কতটুকু তৈরি হলো।
(নাগরিকত্ব বিবেচ্য নয়)
🌍 GNP বলে — কে?
দেশের নাগরিক মোট কতটুকু তৈরি করলো।
(যেখানেই থাকুক)
🧑‍💼 উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্জিত অর্থের যে পরিমাণ বৈধপথে বাংলাদেশে পাঠায় — তা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)-এর অংশ হবে।
💵
মাথাপিছু আয় (Per Capita Income)
PCI · পাঠ ১

একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয়Per Capita Income (PCI). একটি দেশের প্রতিটি নাগরিক গড়ে কত আয় করে তার হিসাব। পাওয়া যায়।

মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয় ÷ মোট জনসংখ্যা
📏 এর মাধ্যমে কী জানা যায়?
একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা হয়।
→ যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি → সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত → অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ
$৯২৮
মাথাপিছু আয়
২০১০ সাল
$২০৬৪
মাথাপিছু আয়
২০১৯-২০ অর্থবছর
📈 উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাব:
উৎপাদন বাড়লে → জনগণের আয় বাড়ে → জীবনযাত্রার মান বাড়ে → দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়
২০১০মাথাপিছু আয় ছিল $৯২৮ — তুলনামূলক কম
২০১৫নিম্ন আয়ের দেশ → নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত
২০১৮স্বল্পোন্নত দেশ → উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ
২০১৯-২০মাথাপিছু আয় বেড়ে $২০৬৪
🔑 দেশের উন্নয়ন বিচারের মানদণ্ড:
মোট জাতীয় উৎপাদন · জনগণের মাথাপিছু আয় · জীবনযাত্রার মান — এই সূচকগুলো দিয়ে একটি দেশ কতটা উন্নত তা বিচার করা হয়।

📌 আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই পূর্ববর্তী বছরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন + প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান — উভয়ই রয়েছে।

🏭
বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনে বিভিন্ন খাতের অবদান
পাঠ ২ · উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০

বাংলাদেশে জাতীয় আয়ের উৎস হিসেবে অনেকগুলি খাত রয়েছে:

🌾 কৃষি ও বনজ 🐟 মৎস্য 🏗️ শিল্প ⛏️ খনিজ ⚡ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি 🏢 নির্মাণ শিল্প 🛒 পাইকারি ও বিপণন 🍽️ হোটেল-রেস্তোরাঁ 🚌 পরিবহন ও যোগাযোগ 🏦 ব্যাংক-বিমা 🏥 স্বাস্থ্য 📋 শুল্ক
── বিস্তারিত তথ্য ──
ক) 🌾 কৃষি ও বনজ খাত
অন্তর্ভুক্ত: খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও বনজ সম্পদ
২০১২-১৩: অবদান ১৩.০৯%, প্রবৃদ্ধি ১.৪৭%
২০১৮-১৯: অবদান ১০.১৫%, প্রবৃদ্ধি ৩.১৫%
খ) 🐟 মৎস্য খাত
অন্তর্ভুক্ত: অভ্যন্তরীণ নদী + অন্যান্য জলাশয় + সামুদ্রিক উৎস থেকে মাছ আহরণ
২০১২-১৩: অবদান ৩.৬৮%, প্রবৃদ্ধি ৬.১৮%
২০১৮-১৯: অবদান ৩.৪৯%, প্রবৃদ্ধি ৬.২১%
গ) 🏗️ শিল্পখাত
অন্তর্ভুক্ত: পোশাক শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, খনিজ সম্পদ, নির্মাণ শিল্প
২০১২-১৩: অবদান ১৯.০০%, প্রবৃদ্ধি ১০.৩১%
২০১৮-১৯: অবদান ২৪.০৮%, প্রবৃদ্ধি ১৪.২০% 🏆
📌 এই খাতগুলো একসাথে ধরায় জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান অনেক বেড়ে যায়।
ঘ) 🛒 পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য
২০১২-১৩: অবদান ১৪.০৩%, প্রবৃদ্ধি ৬.১৮%
২০১৮-১৯: অবদান ১৩.৯২%, প্রবৃদ্ধি ৮.১৪%
ঙ) 🚌 পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ
২০১২-১৩: অবদান ১১.৫০%, প্রবৃদ্ধি ৬.২৭%
২০১৮-১৯: অবদান ১১.০১%, প্রবৃদ্ধি ৭.১৯%
চ) 🏥 স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাত
২০১২-১৩: অবদান ১.৮৮%, প্রবৃদ্ধি ৪.৭৬%
২০১৮-১৯: অবদান ১.৮৯%, প্রবৃদ্ধি ৭.৬৬%
খাতঅবদান ২০১২-১৩প্রবৃদ্ধি ২০১২-১৩অবদান ২০১৮-১৯প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯
🌾 কৃষি ও বনজ১৩.০৯%১.৪৭%১০.১৫%৩.১৫%
🐟 মৎস্য৩.৬৮%৬.১৮%৩.৪৯%৬.২১%
🏗️ শিল্প১৯.০০%১০.৩১%২৪.০৮%১৪.২০%
🛒 পাইকারি ও খুচরা১৪.০৩%৬.১৮%১৩.৯২%৮.১৪%
🚌 পরিবহন ও যোগাযোগ১১.৫০%৬.২৭%১১.০১%৭.১৯%
🏥 স্বাস্থ্য ও সামাজিক১.৮৮%৪.৭৬%১.৮৯%৭.৬৬%
🔑 মূল পয়েন্টস:
• এককভাবে ধরলে কৃষির অবদান সর্বাধিক
• শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হার সবচেয়ে বেশি (১৪.২০%)
প্রযুক্তির বিকাশ কাজে লাগিয়ে জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব
• সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় ও ভারসাম্য রাখা গেলে জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে সহায়ক হবে
👨‍👩‍👧
মানব সম্পদ উন্নয়ন
Human Resource Development · পাঠ ৩

মানুষ তখনই রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পদে পরিণত হয় যখন সে কিছু করতে পারে

💪 শারীরিক শ্রম
রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করে
🧠 মেধা
নতুন নতুন সম্পদ উদ্ভাবন করে সহায়তা করে
কৃষি + শিল্প + সেবাখাতে শ্রম ও মেধা দেওয়া মানুষ = শ্রমশক্তি = মানব সম্পদ
🎯 মানব সম্পদ উন্নয়ন কী?
প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন বা মানব সম্পদে পরিণত করাই হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন।
🛠️ মানব সম্পদ উন্নয়নের উপায়:
উপযুক্ত শিক্ষা · প্রশিক্ষণ · বাসস্থান · চিকিৎসা · খাদ্যের সংস্থান — এই পাঁচটির মাধ্যমেই মানব সম্পদ উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: কোনো অদক্ষ মানুষ নয়, কেবলমাত্র দক্ষ মানুষই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
── বাংলাদেশে মানব সম্পদ পরিসংখ্যান ──
১৪ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৬৪
জনসংখ্যা
২০১১ আদম শুমারি
১৬ কোটি ২৭ লক্ষ
জনসংখ্যা
SVRS ২০১৭, BBS
৬ কোটি ৩৫ লক্ষ
১৫ বছরের উপরে কর্মরত
BBS শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭
৪ কোটি ৩৫ লক্ষ
কর্মরত পুরুষ
২০১৬-১৭
২ কোটি
কর্মরত নারী
২০১৬-১৭
🌾 কৃষি খাত: ৪০.৬% 🏗️ শিল্প খাত: ২০.৪% 🛎️ সেবা খাত: ৩৯.০%
📚 সাক্ষরতার হার:
২০০৯ সালে ছিল ৫৪.৮% → বর্তমানে (২০১৯) ৭৩.৯%
উৎস: Human Development Reports 2020
😟 সমস্যা: দেশে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যাপক সমস্যা রয়েছে।
ফলে বিপুল জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত কঠিন।
অনেক মানুষ দারিদ্র্যের কারণে সন্তানদের শিক্ষা ও খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না।

🔄 দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র (Vicious Cycle of Poverty)

বাংলাদেশের মানুষ দক্ষ জনসম্পদে পরিণত না হওয়ার প্রধান কারণ এই চক্র:

দরিদ্র লোকের পর্যাপ্ত খাদ্য নেই → দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়
তাই কাজ পায় না বা করতে পারে না → আয় কম হয়
কম আয়ের কারণে সঞ্চয় করতে পারে না বা কম সঞ্চয় করে
সঞ্চয় কম হলে মূলধন কম হয় → বিনিয়োগ কম হয়
বিনিয়োগ কম হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না
🔄
অনেক লোকই কাজের অভাবে দরিদ্রই থেকে যায় → চক্র আবার শুরু
💡 সমাধান: মানব সম্পদ পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন —
খাদ্যের নিরাপত্তা · স্বাস্থ্য ও পুষ্টি · শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি · ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ
🏅
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI)
Human Development Index · পাঠ ৪
GDP/GNP-এর সীমাবদ্ধতা:
জিডিপি, জিএনপি ও মাথাপিছু আয় হিসাবে — বাজারে বিক্রি করা হয় না এমন শ্রম ধরা হয় না।
📌 উদাহরণ: গৃহস্থালি দৈনন্দিন কাজে নারীরা যে শ্রম দেয় তা হিসাবে না নেওয়ায় —
① মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না
② গৃহস্থালি কাজে নারীর শ্রমকে মূল্যহীন করে তোলে
→ ফলে মানুষে মানুষে অসমতা সৃষ্টি হয়
🏅 সমাধান — মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
একটি দেশের মানুষ প্রকৃত বিচারে কেমন আছে তা জানার জন্য নানান সূচক ব্যবহার করে দেখা হয় যে, একটি দেশের অর্থনীতি কতটা কল্যাণমুখী

📋 HDI-এর উল্লেখযোগ্য সূচকসমূহ:

📏 গড় আয়ু ⚖️ গড় সামাজিক অসমতা 👩‍🍼 প্রসবকালীন মৃত্যুর হার 💼 বেকারত্বের হার 😔 দারিদ্র্যের হার 👦 শিশুশ্রমের হার 🏚️ কর্মহীন ও হত-দরিদ্রের হার 💍 বাল্যবিবাহের হার 👧 বাল্য মাতৃত্বের হার 💰 আয়ের বৈষম্যের হার 📚 সাক্ষরতার হার 🌿 পরিবেশ বান্ধব টেকসই উন্নয়ন
📊 HDI নির্ধারণে যা দেখা হয়:
সাক্ষরতার হার কতো · ছাত্রভর্তির সংখ্যা/হার · আয় কতো · ব্যয় কতো · কেমন বাড়ি ও চিকিৎসা পাচ্ছে · খাদ্য গ্রহণের অবস্থা কেমন
── বাংলাদেশে HDI পরিস্থিতি ──
১৩৩তম
HDI-তে বাংলাদেশ
২০২০ Human Development Report
১৪২তম
পূর্ববর্তী অবস্থান
২০১৪ সাল
📈 মাত্র ৬ বছরে HDI র‍্যাংকিংয়ে ৯ ধাপ উন্নতি!
💸 বাজেট বরাদ্দ: বর্তমানে সরকার সুষম অর্থনৈতিক ও মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থ-সামাজিক খাতে বাজেটের ২০%-এর বেশি ব্যয় করছে।
🏫 শিক্ষাখাতে উদ্যোগ:
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে
• শিক্ষার সকল স্তরে সমান সুযোগ সৃষ্টি ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি
• সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০% মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বিধি প্রবর্তন
• ফলাফল: ১৯৯১ সালে ২১% → বর্তমানে ৬৪.৯% মহিলা শিক্ষক
🏥 স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায়:
প্রজনন হার ও মৃত্যু হার কমেছে
গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে
নবজাত শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে
অপুষ্টির হার হ্রাস পেয়েছে
📉 দারিদ্র্য হ্রাস (আয়ভিত্তিক):
২০০৫: ৪০.০% → ২০১০: ৩১.৫% → ২০১৬: ২৪.৩%
উৎস: ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ
🛡️ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী:
নগদ ভাতা ও বিনামূল্যে খাদ্য পাচ্ছেন — মুক্তিযোদ্ধা · বয়স্ক · দুঃস্থ নারী · প্রতিবন্ধী · এতিম সহ আরও অনেকে

🏗️ সরকারি প্রকল্পসমূহ:

🏠 একটি বাড়ি
একটি খামার
🏘️ আশ্রয়ণ প্রকল্প
🏡 গৃহায়ণ প্রকল্প
🎖️ উন্নয়নশীল দেশের ৩টি শর্ত:
যে কোনো ২টি অর্জনের শর্ত থাকলেও — বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে:
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ✅
মানবসম্পদ সূচক অর্জন ✅
অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে উন্নীত ✅
২০১৫নিম্ন আয় → নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ (মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে)
২০১৮স্বল্পোন্নত → উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ
🏆 MDG অর্জন: বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) অর্জনের স্বীকৃতি পেয়েছে।
🔢
বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের তুলনা
পাঠ ৫ · উৎস: UNDP Human Development Data (1990-2019)

একটি দেশের মানব উন্নয়ন পরিস্থিতি নির্ণয় করা হয় নিম্নলিখিত সূচক দিয়ে:

💵 মাথাপিছু আয় 🏫 স্কুলে ভর্তির হার 📚 সাক্ষরতার হার (১৫+) 💰 সঞ্চয়ের হার 🏥 চিকিৎসা খরচ 🏠 বসতির হার 🛍️ ভোগ্যপণ্য ব্যবহারের খরচ 💼 বেকারের হার 📖 শিক্ষা খরচ 📊 মাথাপিছু GNI 💲 $১.২৫/দিনের নিচে জীবিকা নির্বাহকারী 👶 জন্ম ও শিশু মৃত্যুর হার

📊 সারণি-১: তুলনামূলক সূচক

সূচকবছর🇧🇩 বাংলাদেশ🇮🇳 ভারত🇵🇰 পাকিস্তান🇱🇰 শ্রীলঙ্কা🇲🇾 মালয়েশিয়া🇮🇩 ইন্দোনেশিয়া
সঞ্চয় (%জিডিপি) ২০১০২৬.২৩৩.২১৪.২২৩.৭২২.৪৩১.০
২০১৯৩১.৬২৭.৫১৪.০২৭.১২৩.০৩১.৩
সাক্ষরতার হার (১৫+) ২০১০৪৭.১৬৯.৩৫৫.৪৯১.২৯৩.১৯২.৮
২০১৯৭৩.৯৭৪.৪৫৯.১৯১.৭৯৪.৯৯৫.৭
বেকারত্বের হার (%) ২০১০৩.৮২.৪০.৭৪.৯৩.৩৫.৬
২০১৯৪.২৫.৪৪.৫৪.২৩.৩৪.৭

উৎস: UNDP Human Development Data (1990-2019)

── ২০২০ Human Development Report অনুযায়ী ──
১৩৩তম
🇧🇩 বাংলাদেশ
১৩১তম
🇮🇳 ভারত
১৫৪তম
🇵🇰 পাকিস্তান
📏 প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল:
🇧🇩 বাংলাদেশ: ৭২.৬ বছর · 🇮🇳 ভারত: ৬৯.৭ বছর · 🇵🇰 পাকিস্তান: ৬৭.৩ বছর
🎉 আয়ুষ্কালে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছে!
⚖️ আয়ভিত্তিক বৈষম্যের হার:
🇧🇩 বাংলাদেশ: ১৬.৬% · 🇮🇳 ভারত: ১৮.৮% · 🇵🇰 পাকিস্তান: ১৭.২%
📌 বৈষম্যে বাংলাদেশ তিনটির মধ্যে সবচেয়ে কম — অর্থাৎ তুলনামূলক সমান বণ্টন।
🌐 HDI-তে আরও যা বিবেচনা করা হয়:
লিঙ্গীয় বৈষম্যের হার · অতি দারিদ্র্যের হার · মোট জনসংখ্যা অনুপাতে কর্মসংস্থানের হার
🎯 SDG (Sustainable Development Goals / টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য):
বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে চলছে।
✈️
প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স
Remittance · পাঠ ৬ · উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২০
রেমিটেন্সRemittance. প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থ। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় উৎস। = প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থ
🌊 রেমিটেন্সের প্রভাব (শুধু পরিবার নয়, দেশেও):
① পরিবারের প্রয়োজন মেটায়
② জীবনযাত্রার মান বাড়ায়
③ নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়
④ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে
⑤ বর্তমানে জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসছে রেমিটেন্স থেকে

🌍 বাংলাদেশিরা কাজ করছেন:

🕌 মধ্যপ্রাচ্য:
সৌদি আরব · কুয়েত · কাতার · মিসর · লিবিয়া · মরক্কো সহ আরও অনেক দেশে
🌏 নিকট ও দূর প্রাচ্য:
মালয়েশিয়া · সিঙ্গাপুর · ব্রুনাই · দক্ষিণ কোরিয়া
🌎 অন্যান্য:
ইউরোপ · আমেরিকা · অস্ট্রেলিয়া · আফ্রিকা — চাকরি, ব্যবসাসহ নানা ধরনের কাজ
🏛️ তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থাসমূহ:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)
বাংলাদেশ ব্যাংক
৪.৭৮ লক্ষ
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি
২০১৯-২০ অর্থবছর
$৯,৬৮৯M
রেমিটেন্স
২০০৮-০৯ অর্থবছর
$১৮,২০৫.০১M
রেমিটেন্স
২০১৯-২০ অর্থবছর
বছরবিশ্বব্যাংক র‍্যাংকিংসার্কে অবস্থান
২০০৮১২তম
২০০৯৮ম২য়
💪 বিশ্ব মন্দায় বাংলাদেশ:
২০০৮-০৯ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের কোনো সংকটের মধ্যে পড়েনি
📌 এর অন্যতম কারণ — প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিটেন্স জাতীয় আয়ের বড় অংশ হওয়ায় শিল্প বা বাণিজ্যের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
🔗 রেমিটেন্স → অর্থনীতিতে প্রভাব:
পরিবারের ব্যয় মেটায় → জীবনমান বাড়ায় → বিনিয়োগ হয় → নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় → দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় → জাতীয় আয় বাড়ে

🃏 ফ্ল্যাশকার্ড প্র্যাকটিস

কার্ডে ট্যাপ করো — উত্তর দেখো! ←→ স্ক্রল করো

GDP মানে কী? কেন হিসাব করা হয়?
Gross Domestic Product. দেশের অভ্যন্তরে (দেশি+বিদেশি) এক বছরে মোট উৎপাদনের আর্থিক মূল্য। হিসাব করা হয় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বোঝার জন্য।
GNP ও GDP-র মূল পার্থক্য কী?
GDP = কোথায় উৎপাদন (দেশের মাটিতে, নাগরিকত্ব বিবেচ্য নয়). GNP = কে উৎপাদন (দেশের নাগরিক, যেখানেই থাকুক)। প্রবাসীদের আয় GNP-তে যোগ হয়, GDP-তে নয়।
মাথাপিছু আয়ের সূত্র ও ২০১০ vs ২০১৯-২০ সাল?
মোট জাতীয় আয় ÷ মোট জনসংখ্যা। ২০১০: $৯২৮। ২০১৯-২০: $২০৬৪।
জিডিপিতে কোন খাতের প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ?
শিল্পখাত — ২০১৮-১৯ সালে প্রবৃদ্ধির হার ১৪.২০%। (শিল্পখাতে পোশাক শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত)
GDP/GNP-এ নারীর গৃহস্থালি কাজ ধরা না হলে কী সমস্যা?
① জাতীয় উৎপাদনের প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না। ② নারীর শ্রমকে মূল্যহীন করে তোলে। ③ মানুষে মানুষে অসমতা সৃষ্টি হয়।
দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের ধাপগুলো কী কী?
দরিদ্র → খাদ্য নেই → দুর্বল স্বাস্থ্য → কাজ নেই → আয় কম → সঞ্চয় কম → মূলধন কম → বিনিয়োগ কম → কর্মসংস্থান নেই → আবার দরিদ্র 🔄
HDI-তে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান?
বাংলাদেশ: ১৩৩তম। ভারত: ১৩১তম। পাকিস্তান: ১৫৪তম। (২০২০ Human Development Report)
উন্নয়নশীল দেশের ৩টি শর্ত কী?
① মাথাপিছু আয় ② মানবসম্পদ সূচক ③ অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক। যেকোনো ২টির শর্ত, কিন্তু বাংলাদেশ ৩টিই অর্জন করেছে।
২০১৯-২০ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ কত?
$১৮,২০৫.০১ মিলিয়ন। ২০০৮-০৯ সালে ছিল $৯,৬৮৯ মিলিয়ন। ৪.৭৮ লক্ষ কর্মী বিদেশে কর্মরত।
রেমিটেন্স তথ্য সংগ্রহ করে কোন ৩টি সংস্থা?
① প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ② বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) ③ বাংলাদেশ ব্যাংক
২০১৬-১৭ জরিপে শ্রমশক্তির বিভাজন?
কৃষি: ৪০.৬% · শিল্প: ২০.৪% · সেবা: ৩৯.০%। পুরুষ: ৪ কোটি ৩৫ লক্ষ। নারী: ২ কোটি। মোট কর্মরত: ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ।
বাংলাদেশের ৩ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প?
① একটি বাড়ি একটি খামার ② আশ্রয়ণ ③ গৃহায়ণ প্রকল্প। সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
Scroll to Top