বাংলাদেশের অর্থনীতি 🇧🇩
🎯 এই অধ্যায় পড়ে তুমি যা পারবে:
বাংলাদেশকে বলা হয় কৃষি প্রধান দেশএদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে এবং কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়।। এদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে।
• শিল্পকারখানা
• রেল পরিবহন
• সড়ক পরিবহন
• নৌপরিবহন
• শিক্ষা (সেবামূলক)
• স্বাস্থ্য (সেবামূলক)
• শিল্পকারখানা
• ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান
• বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে
• দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
একটি দেশের অভ্যন্তরে — দেশি বা বিদেশি নাগরিক যে কেউ হোক — প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)Gross Domestic Product. দেশের ভৌগোলিক সীমার ভেতরে এক বছরে মোট উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।।
কোনো ব্যক্তি বিদেশে কাজ করলে অথবা কোনো কোম্পানি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠালে — সেই আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
📌 GDP = শুধু দেশের মাটিতে উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।
📈 মাত্র ১৫ বছরে GDP বেড়েছে প্রায় ৭.৫ গুণ! উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০
উৎপাদন বৃদ্ধি → দারিদ্র্য হ্রাস → মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে → কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে → বেকারত্ব হ্রাস পায়
📌 এর সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রবৃদ্ধির সূচকে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
একটি দেশের নাগরিক — নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) — যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)Gross National Product. দেশের নাগরিকরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের আয় দেশে এলে তা GNP-তে যোগ হয়।।
দেশের মাটিতে কতটুকু তৈরি হলো।
(নাগরিকত্ব বিবেচ্য নয়)
দেশের নাগরিক মোট কতটুকু তৈরি করলো।
(যেখানেই থাকুক)
একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয়Per Capita Income (PCI). একটি দেশের প্রতিটি নাগরিক গড়ে কত আয় করে তার হিসাব। পাওয়া যায়।
একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা হয়।
→ যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি → সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত → অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ।
উৎপাদন বাড়লে → জনগণের আয় বাড়ে → জীবনযাত্রার মান বাড়ে → দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়
মোট জাতীয় উৎপাদন · জনগণের মাথাপিছু আয় · জীবনযাত্রার মান — এই সূচকগুলো দিয়ে একটি দেশ কতটা উন্নত তা বিচার করা হয়।
📌 আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই পূর্ববর্তী বছরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন + প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান — উভয়ই রয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় আয়ের উৎস হিসেবে অনেকগুলি খাত রয়েছে:
অন্তর্ভুক্ত: খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও বনজ সম্পদ
২০১২-১৩: অবদান ১৩.০৯%, প্রবৃদ্ধি ১.৪৭%
২০১৮-১৯: অবদান ১০.১৫%, প্রবৃদ্ধি ৩.১৫%
অন্তর্ভুক্ত: অভ্যন্তরীণ নদী + অন্যান্য জলাশয় + সামুদ্রিক উৎস থেকে মাছ আহরণ
২০১২-১৩: অবদান ৩.৬৮%, প্রবৃদ্ধি ৬.১৮%
২০১৮-১৯: অবদান ৩.৪৯%, প্রবৃদ্ধি ৬.২১%
অন্তর্ভুক্ত: পোশাক শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, খনিজ সম্পদ, নির্মাণ শিল্প
২০১২-১৩: অবদান ১৯.০০%, প্রবৃদ্ধি ১০.৩১%
২০১৮-১৯: অবদান ২৪.০৮%, প্রবৃদ্ধি ১৪.২০% 🏆
📌 এই খাতগুলো একসাথে ধরায় জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান অনেক বেড়ে যায়।
২০১২-১৩: অবদান ১৪.০৩%, প্রবৃদ্ধি ৬.১৮%
২০১৮-১৯: অবদান ১৩.৯২%, প্রবৃদ্ধি ৮.১৪%
২০১২-১৩: অবদান ১১.৫০%, প্রবৃদ্ধি ৬.২৭%
২০১৮-১৯: অবদান ১১.০১%, প্রবৃদ্ধি ৭.১৯%
২০১২-১৩: অবদান ১.৮৮%, প্রবৃদ্ধি ৪.৭৬%
২০১৮-১৯: অবদান ১.৮৯%, প্রবৃদ্ধি ৭.৬৬%
| খাত | অবদান ২০১২-১৩ | প্রবৃদ্ধি ২০১২-১৩ | অবদান ২০১৮-১৯ | প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ |
|---|---|---|---|---|
| 🌾 কৃষি ও বনজ | ১৩.০৯% | ১.৪৭% | ১০.১৫% | ৩.১৫% |
| 🐟 মৎস্য | ৩.৬৮% | ৬.১৮% | ৩.৪৯% | ৬.২১% |
| 🏗️ শিল্প | ১৯.০০% | ১০.৩১% | ২৪.০৮% | ১৪.২০% |
| 🛒 পাইকারি ও খুচরা | ১৪.০৩% | ৬.১৮% | ১৩.৯২% | ৮.১৪% |
| 🚌 পরিবহন ও যোগাযোগ | ১১.৫০% | ৬.২৭% | ১১.০১% | ৭.১৯% |
| 🏥 স্বাস্থ্য ও সামাজিক | ১.৮৮% | ৪.৭৬% | ১.৮৯% | ৭.৬৬% |
• এককভাবে ধরলে কৃষির অবদান সর্বাধিক
• শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হার সবচেয়ে বেশি (১৪.২০%)
• প্রযুক্তির বিকাশ কাজে লাগিয়ে জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব
• সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় ও ভারসাম্য রাখা গেলে জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে সহায়ক হবে
মানুষ তখনই রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পদে পরিণত হয় যখন সে কিছু করতে পারে।
রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করে
নতুন নতুন সম্পদ উদ্ভাবন করে সহায়তা করে
প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন বা মানব সম্পদে পরিণত করাই হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন।
উপযুক্ত শিক্ষা · প্রশিক্ষণ · বাসস্থান · চিকিৎসা · খাদ্যের সংস্থান — এই পাঁচটির মাধ্যমেই মানব সম্পদ উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
২০০৯ সালে ছিল ৫৪.৮% → বর্তমানে (২০১৯) ৭৩.৯%
উৎস: Human Development Reports 2020
ফলে বিপুল জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত কঠিন।
অনেক মানুষ দারিদ্র্যের কারণে সন্তানদের শিক্ষা ও খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না।
🔄 দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র (Vicious Cycle of Poverty)
বাংলাদেশের মানুষ দক্ষ জনসম্পদে পরিণত না হওয়ার প্রধান কারণ এই চক্র:
খাদ্যের নিরাপত্তা · স্বাস্থ্য ও পুষ্টি · শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি · ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ
জিডিপি, জিএনপি ও মাথাপিছু আয় হিসাবে — বাজারে বিক্রি করা হয় না এমন শ্রম ধরা হয় না।
📌 উদাহরণ: গৃহস্থালি দৈনন্দিন কাজে নারীরা যে শ্রম দেয় তা হিসাবে না নেওয়ায় —
① মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না
② গৃহস্থালি কাজে নারীর শ্রমকে মূল্যহীন করে তোলে
→ ফলে মানুষে মানুষে অসমতা সৃষ্টি হয়।
একটি দেশের মানুষ প্রকৃত বিচারে কেমন আছে তা জানার জন্য নানান সূচক ব্যবহার করে দেখা হয় যে, একটি দেশের অর্থনীতি কতটা কল্যাণমুখী।
📋 HDI-এর উল্লেখযোগ্য সূচকসমূহ:
সাক্ষরতার হার কতো · ছাত্রভর্তির সংখ্যা/হার · আয় কতো · ব্যয় কতো · কেমন বাড়ি ও চিকিৎসা পাচ্ছে · খাদ্য গ্রহণের অবস্থা কেমন
• জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে
• শিক্ষার সকল স্তরে সমান সুযোগ সৃষ্টি ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি
• সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০% মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বিধি প্রবর্তন
• ফলাফল: ১৯৯১ সালে ২১% → বর্তমানে ৬৪.৯% মহিলা শিক্ষক
• প্রজনন হার ও মৃত্যু হার কমেছে
• গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে
• নবজাত শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে
• অপুষ্টির হার হ্রাস পেয়েছে
২০০৫: ৪০.০% → ২০১০: ৩১.৫% → ২০১৬: ২৪.৩%
উৎস: ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ
নগদ ভাতা ও বিনামূল্যে খাদ্য পাচ্ছেন — মুক্তিযোদ্ধা · বয়স্ক · দুঃস্থ নারী · প্রতিবন্ধী · এতিম সহ আরও অনেকে
🏗️ সরকারি প্রকল্পসমূহ:
একটি খামার
যে কোনো ২টি অর্জনের শর্ত থাকলেও — বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে:
① মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ✅
② মানবসম্পদ সূচক অর্জন ✅
③ অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে উন্নীত ✅
একটি দেশের মানব উন্নয়ন পরিস্থিতি নির্ণয় করা হয় নিম্নলিখিত সূচক দিয়ে:
📊 সারণি-১: তুলনামূলক সূচক
| সূচক | বছর | 🇧🇩 বাংলাদেশ | 🇮🇳 ভারত | 🇵🇰 পাকিস্তান | 🇱🇰 শ্রীলঙ্কা | 🇲🇾 মালয়েশিয়া | 🇮🇩 ইন্দোনেশিয়া |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| সঞ্চয় (%জিডিপি) | ২০১০ | ২৬.২ | ৩৩.২ | ১৪.২ | ২৩.৭ | ২২.৪ | ৩১.০ |
| ২০১৯ | ৩১.৬ | ২৭.৫ | ১৪.০ | ২৭.১ | ২৩.০ | ৩১.৩ | |
| সাক্ষরতার হার (১৫+) | ২০১০ | ৪৭.১ | ৬৯.৩ | ৫৫.৪ | ৯১.২ | ৯৩.১ | ৯২.৮ |
| ২০১৯ | ৭৩.৯ | ৭৪.৪ | ৫৯.১ | ৯১.৭ | ৯৪.৯ | ৯৫.৭ | |
| বেকারত্বের হার (%) | ২০১০ | ৩.৮ | ২.৪ | ০.৭ | ৪.৯ | ৩.৩ | ৫.৬ |
| ২০১৯ | ৪.২ | ৫.৪ | ৪.৫ | ৪.২ | ৩.৩ | ৪.৭ |
উৎস: UNDP Human Development Data (1990-2019)
🇧🇩 বাংলাদেশ: ৭২.৬ বছর · 🇮🇳 ভারত: ৬৯.৭ বছর · 🇵🇰 পাকিস্তান: ৬৭.৩ বছর
🎉 আয়ুষ্কালে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছে!
🇧🇩 বাংলাদেশ: ১৬.৬% · 🇮🇳 ভারত: ১৮.৮% · 🇵🇰 পাকিস্তান: ১৭.২%
📌 বৈষম্যে বাংলাদেশ তিনটির মধ্যে সবচেয়ে কম — অর্থাৎ তুলনামূলক সমান বণ্টন।
লিঙ্গীয় বৈষম্যের হার · অতি দারিদ্র্যের হার · মোট জনসংখ্যা অনুপাতে কর্মসংস্থানের হার
বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে চলছে।
① পরিবারের প্রয়োজন মেটায়
② জীবনযাত্রার মান বাড়ায়
③ নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়
④ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে
⑤ বর্তমানে জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসছে রেমিটেন্স থেকে
🌍 বাংলাদেশিরা কাজ করছেন:
সৌদি আরব · কুয়েত · কাতার · মিসর · লিবিয়া · মরক্কো সহ আরও অনেক দেশে
মালয়েশিয়া · সিঙ্গাপুর · ব্রুনাই · দক্ষিণ কোরিয়া
ইউরোপ · আমেরিকা · অস্ট্রেলিয়া · আফ্রিকা — চাকরি, ব্যবসাসহ নানা ধরনের কাজ
• প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
• বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)
• বাংলাদেশ ব্যাংক
| বছর | বিশ্বব্যাংক র্যাংকিং | সার্কে অবস্থান |
|---|---|---|
| ২০০৮ | ১২তম | — |
| ২০০৯ | ৮ম | ২য় |
২০০৮-০৯ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের কোনো সংকটের মধ্যে পড়েনি।
📌 এর অন্যতম কারণ — প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিটেন্স জাতীয় আয়ের বড় অংশ হওয়ায় শিল্প বা বাণিজ্যের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পরিবারের ব্যয় মেটায় → জীবনমান বাড়ায় → বিনিয়োগ হয় → নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় → দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় → জাতীয় আয় বাড়ে
🃏 ফ্ল্যাশকার্ড প্র্যাকটিস
কার্ডে ট্যাপ করো — উত্তর দেখো! ←→ স্ক্রল করো
